শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
খেলা

চাঁদা না দিয়েও ভোটার, ডিএফএ নিয়ে বাফুফের ভজকট

নিজস্ব প্রতিবেদন ১২ ডিসেম্বার ২০২৪ ০৯:৫২ এ.এম

চাঁদা না দিয়েও ভোটার, ডিএফএ নিয়ে বাফুফের ভজকট ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সকল ফেডারেশন তৃণমূল পর্যায়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে স্ব স্ব খেলাধুলা পরিচালনা করে আসছে। ২০০৮ সালের বাফুফে নির্বাচনের আগে ফিফার ধুয়া তুলে ফুটবল জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বের হয়ে আলাদা এসোসিয়েশন করে। সরকারি প্রভাবমুক্ত ও ফুটবলের উন্নয়নের জন্য করা হলেও আদতে এটি নির্বাচনে বাফুফের কতিপয় কর্মকর্তার ‘ভোট ব্যাংক’–এ পরিণত হয়েছে। 

বিগত নির্বাচনের মতো সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও জেলা-বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের ভোটাররাই ছিলেন জয়-পরাজয়ের নিয়ন্ত্রক। ২৬ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচনে ৬৬ জেলা-বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ভোটার ছিলেন। তাদের ভোটে নির্বাচিত বাফুফে কর্তারা গতকাল ২৯ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কমিটিই ভেঙে দিয়েছে। 

৯ নভেম্বর বাফুফে নতুন কমিটির প্রথম সভায় রাজবাড়ী জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম দুলালকে ডিএফএ মনিটরিং কমিটির প্রধান করা হয়। তার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বাফুফে ২৯ ফুটবল এসোসিয়েশনের নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করেছে। দুুলাল এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাকে ১৫ দিনের মধ্যে ডিএফএ-গুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। আমি বাফুফের অফিস স্টাফের (মোজাম্মেল মিঠু) তথ্যমতে মূলত খোঁজ-খবর নিয়ে কাজ করেছি। কতবার লিগ আয়োজন করেছে, জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ সংখ্যা, অ্যাফিলিয়েশন ফি দেয় কি না, অডিট রিপোর্ট ও কর্মকর্তারা সক্রিয় রয়েছেন কি না। এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আমি একটি প্রতিবেদন দিয়েছি। অনেক সংস্থা অ্যাফিলিয়েশন ফি প্রদান করেনি। সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার বাফুফেই নিয়েছে।’

৯ নভেম্বর শুধু ডিএফএ মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যানই মনোনীত হয়েছিলেন দুলাল। পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন হয়নি। ফলে দুলালকে একাই কাজ করতে হয়েছে, ‘আমি কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করেছিলাম। অনুমোদনের বিষয়টি বাফুফের। চেয়েছিলাম সময় নিয়ে বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করার। সেটার সুযোগ না হওয়ায় স্টাফের তথ্য ও আমার যোগাযোগের ভিত্তিতেই একটি রিপোর্ট দাঁড় করিয়েছি।’

জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সঙ্গে বাফুফের পক্ষে যোগাযোগ রাখেন এক্সিকিউটিভ মোজাম্মেল মিঠু। যার ওপর অনেক জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের ক্ষোভ। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় কাউন্সিলরশিপ ফরম প্রদান ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের নির্বাচনেও তার পক্ষপাত আচরণের অভিযোগ অনেক সংগঠকের। সেই মিঠুর তথ্যের ওপর কাজ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন খোদ ডিএফএ মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান দুলাল, ‘মিঠুর কাছে শরীয়তপুরের লিগ নিয়ে তথ্য ছিল না। তাই শরীয়তপুরকে ধরেই ২৯টি ডিএফএ কমিটি নিয়ে পর্যবেক্ষণ ছিল। শরীয়তপুর জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন লিগ আয়োজন করে এবং অনেক খেলাতেই অংশগ্রহণ করে। ওই জেলার সভাপতি সালাম ভাই নিশ্চিত করার পর আমি শরীয়তপুরকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি মিঠুকে অবহিত করেছি। এ ছাড়া আমার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় দ্রুত ফেডারেশন ত্যাগ করি।’ 

বাফুফে সভাপতির সঙ্গে ডিএফএ মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান-ও সাক্ষাৎ করেছেন। সেই সময় তালিকায় ২৯ থাকলেও পরক্ষণে ২৮ হওয়ায় সভাপতি বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। আবার মুন্সিগঞ্জ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের লিগ আয়োজনে অনিয়মিত এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলেও মনিটরিং রিপোর্টে কমিটি বিলুপ্তির সুপারিশ নেই, শুধু লেখা নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। বিভিন্ন সূত্রের খবর, এই দুই বিষয়ে মূলত সভাপতি নাখোশ হয়ে ডিএফএ মনিটরিং কমিটিই ভেঙে দিয়েছেন। এতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে– কমিটি প্রধানের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হলে তার সুপারিশ কেন গৃহীত হলো? 

বাফুফে নির্বাচনের আগে জেলা-বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের কাউন্সিলর অনিয়ম নিয়ে বেশ সরব ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশন সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। ২৯ নির্বাচিত ডিএফএ ভাঙা নিয়ে তার বক্তব্য, ‘ডিএফএ অবশ্যই সংস্কার প্রয়োজন। আমরা যারা জেলা নিয়ে কাজ করি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সুন্দর উপায়ে এটি করা যেত। ঢালাওভাবে ২৯ নির্বাচিত কমিটি ভাঙা কখনোই শোভনীয় বা সঠিক নয়।’ ডিএফএ কমিটি ভাঙার মাধ্যমে তাদের নির্বাচনকালীন অভিযোগই সত্য হলো বলে মনে করেন তিনি, ‘আমরা শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলাম ডিএফএ’র বিষয়গুলো নিয়ে। তৎকালীন কমিটি সেগুলো আমলেই নেয়নি।’

গতকাল সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৯ জেলা-বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশ করেনি। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানা গেছে, কয়েকটি বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের পাশাপাশি ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদুপর, শরীয়তপুর, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, নাটোর, জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগা, ঠাকুরগাও, পঞ্চগড়, নোয়াখালী ও ফেনী রয়েছে কমিটি বাতিলের তালিকায়। এর মধ্যে কয়েকটি জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাফুফের এই সিদ্ধান্তে। ফেডারেশন থেকে তালিকা প্রকাশ ও চিঠি না পাওয়ায় তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি, তবে তাদের প্রায় সবারই মতামতের সারমর্ম, ‘আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত হয়ে এখন আমাদের কমিটিই বাতিল করছে।’ 

বাফুফের গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনকে বাৎসরিক একটি চাঁদা পরিশোদ করতে হবে (১০০০ টাকা)। অনেক জেলা-বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশন সেই চাঁদাই পরিশোধ করেনি। যেকোনো সংগঠনে চাঁদা পরিশোধ না করলে ভোটাধিকার থাকে না। দীর্ঘদিন চাঁদা পরিশোধ না করেও অনেক জেলা-বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশন বাফুফের ভোটার হয়েছে ঠিকই। বাফুফে নির্বাহী কমিটির আদেশে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে সচিবালয়। এ নিয়ে বর্তমান কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তা যারা বিগত কমিটিতে ছিলেন, তারা মুখে কুলুপ এটেছেন। প্রকারান্তে দায় চাপাচ্ছেন সামগ্রিকভাবে নির্বাহী কমিটি এবং বিশেষত সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের ওপর। কারণ ২০২০-২৪ এই মেয়াদে জেলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও ছিল তার।

মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সামঞ্জস্য নেই

গতকাল বাফুফে নির্বাহী সভার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের রেলিগেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও দেখা গেছে বিভ্রাট। সভা শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু বেশ স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন আগামী মৌসুমের বিপিএলে কোনো রেলিগেশন নেই। এর কিছুক্ষণ পর বাফুফের মিডিয়া বিভাগ থেকে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় ভিন্ন তথ্য, সমাপ্ত হওয়া ২০২৩-২৪ মৌসুমের লিগে রেলিগেশন নেই। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত লিগের রেলিগেশন শুধু রহিত করা হয়েছে। না হলে মাত্র তিনটি দল থাকে। আগামী মৌসুমে অবশ্যই রেলিগেশন থাকবে।’

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে রেলিগেশন না থাকা নিয়ে যথেষ্ট আপত্তি করেছিলেন নির্বাহী কমিটির এক সদস্য। পুরান ঢাকার একটি ক্লাব বারবার রেলিগেশনে পড়েও একই স্তরে খেলার সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিগত কমিটির প্রভাবশালী এক নির্বাহী সদস্য উল্টো সেই ক্লাবের পক্ষ নেন। এতে দুই জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়। কালকের সভায় আরেকটি বাহাসে জড়ান অন্য দুই সদস্য। এ নিয়ে কমিটির অনেকেই বিব্রত হয়েছেন। তাই আগামী সভার আগে সদস্যদের আচরণ নিয়ে নির্দেশনা চেয়েছেন কয়েকজন। কালকের সভায় বাফুফের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা বাজেট ও আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে শীর্ষ এক কর্মকর্তার প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। ফলে আগামী সভায় আবার বাজেটের বিষয়টি আলোচনায় উঠবে। 


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

১৬ রানে হেরে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

news image

হংকংয়ের সঙ্গে ড্র, শেষ এশিয়ান কাপের আশা

news image

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় পরাজয় বাংলাদেশের

news image

শেষ মুহূর্তের গোলেই হার, স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

news image

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করেও হার বাংলাদেশ নারী দলের

news image

বিসিবি নির্বাচন বয়কটের হুমকি ক্লাব সংগঠকদের

news image

দারুণ ফর্মে আলভারেজ, তিন ম্যাচে ছয় গোল

news image

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

news image

আইএল টি-টোয়েন্টির নিলামে দল পেলেন না অশ্বিন

news image

বিসিবি নির্বাচন থেকে তামিম ইকবালের সরে দাঁড়ানোর কারণ কী?

news image

বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর

news image

হাসপাতাল ছেড়েছেন মাইনর স্ট্রোকে আক্রান্ত বাংলাদেশ নারী দলের কোচ

news image

যে সুখবর পেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দল

news image

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হতে যাচ্ছেন আসিফ আকবর

news image

বিসিবি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তামিম

news image

ক্রিকেটে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত থাকবে ফ্যাঞ্চাইজি লিগ

news image

নির্বাচন নিয়ে প্রবল চাপে তামিম

news image

বিশ্বকাপ শুরু আজ, বাংলাদেশের খেলা কবে

news image

এশিয়া কাপের ফাইনাল হয়ে উঠল রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চ

news image

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ক্রিস ওকস

news image

৭ গোলের রোমাঞ্চে রিয়ালকে হারাল অ্যাতলেতিকো

news image

শেষ মুহূর্তে লিভারপুলকে স্তব্ধ করল প্যালেস

news image

বিসিবি নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

news image

সুপার ওভারের নাটকীয়তায় শ্রীলঙ্কাকে হারালো ভারত

news image

সমঝোতা নিয়ে বৈঠক চলছে তামিমের বাসায়

news image

শুধু ইগো বা জেতার জন্য নোংরামি কইরেন না: তামিম

news image

পাকিস্তানকে হারাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ, এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তান

news image

পাকিস্তানের বিপক্ষে কেমন হবে বাংলাদেশের একাদশ?

news image

বিসিবি নির্বাচন, তামিমের বিরুদ্ধে ভুয়া আপত্তি

news image

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড মুস্তাফিজের