শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
আন্তর্জাতিক

গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবে যা আছে

ঢাকার বার্তা ডেস্ক ২৯ সেপ্টেম্বার ২০২৫ ১০:৩২ পি.এম

সংগৃহীত সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পের এ প্রস্তাবে ২০ দফা রয়েছে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউস থেকে এ প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়। এটি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে থামাতে পারে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।

যদি উভয় পক্ষ এই পরিকল্পনা বা প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে যুদ্ধ তাৎক্ষণিক শেষ হবে। এর ফলে গাজায় বন্দি থাকা জীবিত ও নিহতদের মরদেহ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া গাজা অস্থায়ীভাবে একটি ফিলিস্তিনি সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে, যেখানে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। ইসরায়েল গাজাকে অধিগ্রহণ করবে না।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি হামাস। হামাসের কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাউই আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, গাজায় শান্তি পরিকল্পনার ট্রাম্পের লিখিত প্রস্তাব তারা এখনো পাননি।

যা আছে ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবে
১. গাজা উগ্রবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হবে, যা এর প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি তৈরি করবে না।
২. গাজার জনগণের কল্যাণের জন্য গাজা পুনর্গঠিত হবে, যারা যথেষ্ট কষ্ট ভোগ করেছেন।
৩. যদি উভয় পক্ষ এই প্রস্তাবে সম্মত হয়, তবে যুদ্ধ তাৎক্ষণিক শেষ হবে। ইসরায়েলি বাহিনী বন্দি মুক্তির প্রস্তুতির জন্য নির্ধারিত সীমান্তে প্রত্যাহার করবে। এই সময়ে সব সামরিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে বায়ু ও আর্টিলারি হামলা।

৪. এই চুক্তি গ্রহণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের সব বন্দি, জীবিত ও মৃতদেহ ফেরত পাঠাতে হবে।
৫. সব বন্দি মুক্তি পাওয়ার পর ইসরায়েল ২৫০ জন বন্দিসহ এক হাজার ৭০০ গাজাবাসীকে মুক্তি দেবে, যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পরে আটক হন। এর মধ্যে নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিটি ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত দিলে ইসরায়েল ১৫ জন মৃত গাজাবাসীর মরদেহ ফিরিয়ে দেবে।

৬. বন্দিদের ফেরত দেওয়ার পর হামাসের যারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি হবে তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এছাড়া হামাসের যেসব সদস্য গাজা ছাড়তে চান তাদের নিরাপদভাবে গন্তব্য দেশে যেতে দেওয়া হবে।

৭. এই চুক্তি গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় পূর্ণ সাহায্য অবিলম্বে পাঠানো হবে। যার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোর পুনর্বাসন, হাসপাতাল ও বেকারি পুনর্গঠন, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং রাস্তা খোলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশের ব্যবস্থা।

৮. গাজায় মানবিক সহায়তা জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট ও অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেগুলো উভয় পক্ষের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত নয়। রাফাহ ক্রসিং খোলা থাকবে, যে বিষয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি চুক্তি হয়েছিল।

৯. গাজা একটি প্রযুক্তিনির্ভর, অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটির অস্থায়ী শাসনের অধীনে পরিচালিত হবে। গাজার জনগণের দৈনন্দিন জনসেবা ও পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে তারা। এই কমিটিতে যোগ্য ফিলিস্তিনি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এর তদারকি ও নজরদারি করবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান ‌‘পিস বোর্ড’, যার নেতৃত্ব ও সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্প। অন্যান্য সদস্য ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে, এর মধ্যে থাকবেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।

১০. গাজা পুনর্গঠনে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এতে এমন বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল গঠন করা হবে যারা মধ্যপ্রাচ্যের কিছু উন্নত ও সমৃদ্ধ শহরের সূচনা করেছিলেন।

১১. গাজায় একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে শুল্ক ও প্রবেশাধিকার হার নিয়ে আলোচনা ও চুক্তি করা হবে।

১২. গাজা থেকে কাউকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হবে না। তবে যারা যেতে চান তারা নিজের ইচ্ছায় যেতে পারবেন এবং ফিরে আসতেও পারবেন।

১৩. হামাস এবং অন্যান্য গোষ্ঠী গাজার শাসনে সরাসরি, পরোক্ষভাবে বা কোনোভাবে অংশ নেবে না বলে সম্মত হয়েছে। সব সামরিক, সন্ত্রাস ও আক্রমণাত্মক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে, যার মধ্যে সুড়ঙ্গ এবং অস্ত্র উৎপাদন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত। নতুন গাজা সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলায় এবং তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

১৪. আঞ্চলিক অংশীদাররা এ বিষয় নিশ্চিত করবে যে, হামাস এবং অন্যান্য গোষ্ঠী প্রতিবেশী দেশ বা তার জনগণের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করবে না।


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

ফিলিস্তিনে ক্ষমতার প্রস্তুতি: আব্বাসের পর কে? ঘোষণা এলো নিজ মুখে

news image

অভিবাসীরা জার্মানির উদ্ভাবন ও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে

news image

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৬২ অভিবাসী আটক

news image

ফ্রান্সে নতুন সরকার ঘোষণা, প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু পুনর্বহাল

news image

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত উত্তেজনা চরমে

news image

ফিলিপাইনে জোড়া ভূমিকম্প, ৭ জনের প্রাণহানি

news image

দলবেঁধে ঘরে ফিরছে গাজার মানুষ, শেষ হলো রক্তক্ষয়ী সংঘাত

news image

শাহরুখকে দেশ ছাড়ার পরামর্শ অভিনব কাশ্যপের

news image

কাবুলে একাধিক বিস্ফোরণ, বিমান হামলার আশঙ্কা

news image

শহিদুল আলমসহ আটকৃতদের নেওয়া হয়েছে আশদোদ বন্দরে

news image

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসানীতিতে বিপাকে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা

news image

এভারেস্টে তীব্র তুষারঝড়, আটকা এক হাজার পর্যটক

news image

আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে ডাকছে পাকিস্তান, ক্ষেপেছে ভারত

news image

জাপানে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সানা তাকাইচি

news image

আবুধাবিতে ৬৬ কোটি টাকা জিতলেন বাংলাদেশি যুবক

news image

সেনাদের গাজা দখল অভিযান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল

news image

ইসরায়েলি বাহিনীর অবরোধে গাজামুখী সুমুদ ফ্লোটিলা

news image

জেন জি আন্দোলনে আরও এক দেশে সরকার পতন

news image

গুপ্তচর সন্দেহে ৫-৬ বছরের দুই ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করলো ইসরায়েলি সেনারা

news image

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বার শাটডাউন, ট্রাম্পের আমলেই ২ বার

news image

যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউনে বাড়ল স্বর্ণের দাম

news image

সমালোচনার মুখে আফগানিস্তানে ইন্টারনেট ফিরিয়ে দিল তালেবান

news image

জেন জি আন্দোলনে আরও এক দেশে সরকার পতন

news image

‘দিল্লি বাবা’র হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

news image

যুক্তরাষ্ট্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন

news image

ফিলিস্তিনিদের জন্য আবারও কি ফাঁদ পাতলেন ট্রাম্প?

news image

জেন-জি বিক্ষোভের মুখে আরেক দেশের সরকার পতন

news image

গাজায় ইসরাইলি হামলায় একদিনে ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত

news image

গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবে যা আছে

news image

বিক্ষোভ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অলি দেশ ছাড়তে পারবেন না