মনোয়ার হোসেন লিটন ০৫ নভেম্বার ২০২৪ ০২:১৫ পি.এম
ভূপতি ভূষণ বর্মা একজন ভাওয়াইয়া সংগীত শিল্পী। ভাওয়াইয়া গানে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভাওয়াইয়া ভাস্কর নামেও পরিচিত।সঙ্গীত শিল্পীর পাশাপাশি তিনি একজন শিক্ষক। তিনি শুধু বাংলাদেশেই নয় পশ্চিম বাংলায় ও ব্যাপক জনপ্রিয় শিল্পী। ৬৬ বছর বয়সী গুণী এই শিল্পী ভাওয়াইয়া গানের সাধনার সাথে- সাথে সুন্দর একটি প্রজন্মের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি ১৯৫৮ সালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেল বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে আঠারো পাইকা গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা নরেন্দ্রনাথ বর্মা একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন এবং মা কামাখ্যাময়ী। তিনি একজন আদর্শ গৃহিণী ছিলেন ।বাবা-মায়ের ৭ সন্তানের মধ্যে শিল্পী ভূপতি ভূষণ বর্মা দ্বিতীয়। বাবা নরেন্দ্রনাথ ছিলেন একজন সঙ্গীত অনুরাগী মানুষ। তিনি বাড়িতে কলের গান শুনতেন। সেই কলের গানে আব্বাসউদ্দীনের গান গুনে ভাওয়াইয়া গানের প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি।
তিনি ৭ ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বার্ষিক ক্রিয়া সমাপনী অনুষ্ঠানে আব্বাস উদ্দিনের ভাওয়াইয়া গান গেয়ে সকলের মন জয় করেন ( ও মোর কালারে কালা)। পরবর্তীতে বাবা তার গানের প্রতি আগ্রহ দেখে ১৯৭৩ সালে তাকে একটি হারমোনিয়াম কিনে দেন। সুবেন্দ্রনাথ বর্মন প্রথম তাকে হারমোনিয়াম বাজানো শিখেছিলেন।তিনি একজন যাত্রা গানের মাস্টার ছিলেন। এরপর তিনি ৮ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় রাম-লীলা কীর্তন দলের প্রধান হন।কুড়িগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় কীর্তন করতো তার সেই দল।কীর্তন করে সেসময় পুরুষ্কার পেতেন ৫ শত থেকে ৭ শত টাকা।
১৯৭৫ সালে তিনি বকসীগঞ্জ রাজিবিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭৭ সালে (বর্তমানে) উলিপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন এবং ১৯৮১ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন।
১৯৮২ সালে গ্রামের দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে বিএড কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ২০১৮ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন।
১৯৮২ সালে তিনি ভাওইয়া শিল্পী হিসেবে রংপুর বেতারের তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বিশেষ গ্রেডের শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করছেন। এছাড়াও ২০০৭ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ভাওয়াইয়ার ’ক’ শ্রেণির শিল্পী। তার কন্ঠে রেকর্ডকৃত গানের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।
ভাওয়াইয়া গানের প্রচার, গবেষনা এবং ভাওয়াইয়া গানে অবদানকারীর জীবনী ও ভাওয়াইয়ায় অবদান আঞ্চলিক ভাষা রক্ষা, ইতিহাস- ঐতিহ্য বিভিন্ন দরবারে তুলে ধরতে ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমি, উলিপুর, কুড়িগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন।৭৫ জন শিল্পী নিয়ে তিনি একাডেমির যাত্রা শুরু করেন। সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাপ সে একাডেমির জন্য ৫ শতাংশ জমি দান করেন। তার এই ভাওয়াইয়া একাডেমিতে বিনা পয়সায় সংগীত শিখতে পারেন ছাত্রছাত্রীরা। ৩ বছর মেয়াদে একটি কোর্স করার পর দেয়া হয় একটি সনদ।
ভুপতি ভূষণ বর্মা বলেন, এখন বাচ্চারা আগের মতো গান শিখতে চায় না। আমরা শিক্ষকরাই সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাচ্চাদের নিরুৎসাহিত করি। বাচ্চারা নষ্ট হয়ে যাবে, এ প্লাস পাবে না, সব সময় তাদের ব্যবসায়ী চিন্তা।
বর্তমানে কোচিং সেন্টার গুলি বাচ্চাদের যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছে।সকাল থেকে শুরু হয় প্রাইভেট, স্কুল, তারপর কোচিং। বাংলা, গনিত, ইংলিশের মত সাবজেক্টের টিউটর রাত্রি পর্যন্ত থাকে। বাচ্চারা এখন স্বাধীনচেতা হতে পারছে না। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষকরাই দায়ী। একজন ক্রিয়া শিক্ষককে দিয়ে স্কুলে বাংলা ও অন্যান্য সাবজেক্ট গুলি পড়ানো হয়। সরকারি ভাবে শুধুমাত্র ইভেন্ট ভিত্তিক দায়সারা কাজ করা হয়।সরকারকে অবশ্যই পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
বর্তমান প্রজন্মে যারা গান করতে চাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই কিছুটা বিকৃত রুচির হয়ে গেছে। শুধুমাত্র কিবোর্ড ও প্যাড দিয়ে তারা গান করতে চায়। কিন্তু লোকসংগীতের আসল যন্ত্র, দোতারা, বাংলা ঢোল, সারিন্দা ও মন্দিরা।
এই প্রজন্মের তরুণেরা সহজেই জনপ্রিয়তা পেতে চায়। আসলে সহজে জনপ্রিয়তা এক জিনিস, আর আবিষ্কারের দর্শন আলাদা। একটি গান সৃষ্টি করেছেন যিনি তিনি তার আবিষ্কারক। অবশ্যই তিনি এই গানটি তৈরির সময় অনেক চিন্তা করে তৈরি করেছেন।তাই সেই গানগুলি অন্য সুরে, তালে ও লয়ে গাওয়ার সময় সতর্ক থাকা উচিত।
আমরা যারা এখন গান করছি আমাদেরই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক নেই। আমরা অনেক সময় ব্যবসায়ী হয়ে যাই। আসলে ব্যবসায়ী হলে হবে না, সাধক হতে হবে।
তার কাছে ভাওয়াইয়া গানের অন্যতম শিল্পী হিসেবে বিবেচিত আব্বাস উদ্দিন, কছিম উদ্দিন, রথীন্দ্রনাথ রায়, হরলাল রায়, মহেশ চন্দ্র রায়, নাদিরা বেগম,মোস্তফা জামান আব্বাসী।
তার অন্যতম গানের ক্যাসেট ফেরিওয়ালা, মনে জানে মনের কথা, পাপের কথা বাপে কয়, ঢালুয়া খোপা ইত্যাদি।
তার অন্যতম গান, কেমন কেমন আছেন ফুল মিয়া, বিয়াও পাগলা দেওরা।
তিনি দেশ-বিদেশে ভাওয়াইয়া গান গেয়ে ৩৫টি স্মারক ও পদক পেয়েছেন। সংগীতে অবদান রাখায় পেয়েছেন ভাওয়াইয়া একাডেমি রংপুর কর্তৃক “আব্বাস উদ্দিন পদক”, পশ্চিমবঙ্গ মণীষি পঞ্চানন স্মৃতি রক্ষা কমিটি কর্তৃক সম্মাননা, প্রচ্ছদ , কুড়িগ্রাম কর্তৃক গুণী শিল্পী সম্মাননা পদক , রংপুর ক্ষত্রিয় সমিতির শততম বার্ষিকী সম্মাননা পদক। এছাড়াও ওস্তাদ মমতাজ আলী খান একাডেমি, বাংলাদেশ লোক সংগীত পরিষদ, সলিডারিটি কুড়িগ্রাম থেকে সম্মাননা পদক উল্লেখযোগ্য।
২০১৯ সালে প্রকাশিত হলো 'নিদান কালের বান্ধব' শিরোনামে এই ভাওয়াইয়া ভাস্কর ভূপতি ভূষণ বর্মা সংবর্ধনগ্রন্থ। লোকসংস্কৃতি গবেষক ড. এরশাদুল হকের সম্পাদনায় শিল্পীর ৬২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত এ বইটি ভাওয়াইয়া গানের বিষয়-আসয় নিয়ে একটি মূল্যবান প্রকাশনায় পরিণত হয়েছে, যা শিল্পী ভূপতি ভূষণ বর্মার জীবন ও কর্মের দলিল স্বরূপ।
তিনি শুধু বাংলাদেশে নয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সমানভাবে জনপ্রিয়। ওপার বাংলায় কমপক্ষে ৩০ বার গিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে ভাওয়াইয়া প্রতিযোগিতায় তিনি ৬ বার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৭ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া যান।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে "Introduction to Indigenous Instruments Related to Bhawaya" কোর্সে তাঁর জীবনী পড়ানো হয়।
‘ডাক্তার দেরিতে’ আসায় হাসপাতালে ভাঙচুর, চিকিৎসাসেবা বন্ধ
আ. লীগ ভবিষ্যতে এদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে না : নুর
দাওয়াত খেতে গিয়ে মার খেলেন আওয়ামী লীগ নেতা
বিয়ের পর ছাত্রীকে অস্বীকার, পলাতক প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
বাড়ি থেকে ডেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার রগ কাটল দুর্বৃত্তরা
দুই কৃষককে নিয়ে গেল বিএসএফ, দুই ভারতীয়কে আটকে রেখেছে গ্রামবাসী
খাবার চুরি, বিয়ে না করেই ফিরে যাচ্ছিলেন বর
যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা
শেখ হাসিনা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে
জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিন : রিজভী
মে দিবস: ‘কাম করলে পেটোত ভাত যায়, না করলে নাই’
৭৫ বছর বয়সে ডিগ্রি পাস, প্রশংসায় ভাসছেন সাদেক আলী
বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষককে জুতাপেটা
জামিনে বের হয়ে জেলগেট থেকে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ছেলেকে হত্যা করে থানায় বাবার আত্মসমর্পণ
সাতক্ষীরায় বিএনপির সার্চ কমিটিতে আ.লীগ নেতারা
আওয়ামী লীগের নামে কোনো দল রাজনীতি করতে পারবে না : নুর
মাটি খুঁড়তেই মিলল অবিস্ফোরিত মর্টার শেল
শহীদ কন্যা লামিয়ার পরিবারের পাশে বিএনপির স্বাস্থ্য সেল
এইচএসসির ফরম পূরণের টাকায় দুই যুবদল নেতাকে অনুদান
হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ, সন্তানকে নিয়ে পালালেন স্বামী
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ‘গণপিটুনি’ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
চাঁদা আদায়কারী সেই পুলিশ সদস্য ক্লোজড
বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হলে সে হয়তো পৃথিবী থেকে বিদায় নিত না: রিজভী
গ্রাহকের জামানতের শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা আ.লীগের তিন নেতা
বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাকে মারধরের অভিযোগ
নৌকার প্রতিকৃতি ভাঙলেন গোপালগঞ্জের আ.লীগ নেতা
পরীক্ষায় খাতা দেখতে না দেওয়ায় মারধর, শিক্ষার্থীর মৃত্যু
গণহত্যাকারী দল আ.লীগকে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না : জিলানী
বিএনপিতে সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নাই : শামা ওবায়েদ